ব্রেকিং নিউজ
00:00:00 |

মৃত্যুভয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক জাতির পরিণতি

 মানুষ যখন মৃত্যুভয়ে কাঁপতে থাকে, তখন সে অনেক সময় ভুলে যায়—জীবন ও মৃত্যুর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ তার নিজের হাতে নয়। এমনই এক গভীর শিক্ষণীয় ঘটনা আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারায় উল্লেখ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, একদল মানুষ ছিল যারা মহামারি বা মৃত্যুভয়ের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তারা সংখ্যায় ছিল হাজার হাজার।



তাদের ধারণা ছিল, যদি তারা এই স্থান ছেড়ে চলে যায়, তবে মৃত্যু থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু তাদের এই ধারণা ছিল সম্পূর্ণ ভুল, কারণ মৃত্যু কোনো স্থান, সময় বা পরিকল্পনার অধীন নয়। বরং তা আল্লাহর নির্ধারিত এক অবধারিত সত্য। 

আল্লাহ তাআলা কোরআনে সেই ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন, ‘(হে নবী) তুমি কি তাদের কথা চিন্তা করোনি, যারা মৃত্যুভয়ে নিজেদের ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, আর তারা ছিল হাজার হাজার? তারপর আল্লাহ তাদের বললেন, ‘তোমরা মরে যাও’; তারপর তিনি তাদের পুনরুজ্জীবিত করলেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৪৩)

এই আয়াতের তাফসিরে হাফেজ ইবনে জারির তবারি (রহ.) উল্লেখ করেন, ইবনে আব্বাস (র‍া.) ও কয়েকজন তাবিয়ি থেকে বর্ণিত যে, এটা বনি ইসরাঈলের ঘটনা। তারা সংখ্যায় হাজার-হাজার হওয়া সত্ত্বেও শত্রুর মোকাবেলা করতে সাহস পায়নি। উল্টো তারা প্রাণভয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল।

অথবা তারা প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে এলাকা ছেড়েছিল। তারা যে স্থানকে নিরাপদ ভূমি মনে করেছিল, সেখানে পৌঁছামাত্র আল্লাহ তাআলার হুকুমে তাদের মৃত্যু এসে যায়। তারপর যখন তাদের অস্থিরাজি জরাজীর্ণ হয়ে যায় তখন হযরত হিজকিল (আ.) সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে আদেশ করলেন, তিনি যেন সে অস্থিরাজিকে লক্ষ্য করে ডাক দেন। তিনি ডাক দেওয়া মাত্র অস্থিসমূহে প্রাণ সঞ্চার হয় এবং পূর্ণ মানব আকৃতিতে তারা জীবিত হয়ে ওঠে।
হিজকিল (আ.)-এর এ ঘটনাটি বর্তমান বাইবেলেও বর্ণিত রয়েছে। (হিজকিল, ৩৭ : ১-১৫)। (তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন : মুফতি তাকি উসমানি)

অন্যান্য তাফসির অনুযায়ী ঘটনাটি হলো এমন যে, বনি ইসরাইলের একটি জনপদে মহামারি ছড়িয়ে পড়লে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দলে দলে এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করে। তারা মনে করেছিল, পালিয়ে গেলেই তারা বেঁচে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তাদের এই ভ্রান্ত ধারণাকে ভেঙে দিলেন এবং তাদের মৃত্যুর মুখোমুখি করলেন। তারপর আল্লাহ যখন বললেন, ‘তোমরা মরে যাও’, তখন তারা সবাই মৃত্যুবরণ করল।

এরপর আল্লাহ আবার তাদের জীবিত করলেন, যাতে তারা এবং পরবর্তী মানুষরা বুঝতে পারে যে জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর হাতে, এবং কোনো মানুষের পক্ষে তাকদির থেকে পালানো সম্ভব নয়। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন)

মানুষ যতই চেষ্টা করুক না কেন, আল্লাহর ফয়সালার বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। আর ভয় মানুষকে দুর্বল করে, কিন্তু ঈমান মানুষকে শক্তি দেয়। তারা যদি আল্লাহর উপর ভরসা করত, তবে হয়তো এই ভয় তাদের ধ্বংসের কারণ হতো না। আল্লাহ এই ঘটনার মাধ্যমে মানবজাতিকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, জীবন দানকারীও তিনিই, মৃত্যু দানকারীও তিনিই, আবার ইচ্ছা করলে তিনিই পুনরায় জীবন ফিরিয়ে দিতে সক্ষম।

পরবর্তী সংবাদ পূর্ববর্তী সংবাদ
এখনও কোনো মন্তব্য নেই
আপনার মন্তব্য লিখুন
comment url