জাতীয় দলে সাকিব ফিরলে লাভ কী, কেন এখনো তাঁকে দরকার মনে করেন সালাহউদ্দীন
দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের জাতীয় দলে নেই সাকিব আল হাসান। এই সময়টায় বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই বেশি দেখা গেছে তাকে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, ফর্ম ও ফিটনেস ঠিক থাকলে আবারও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ রয়েছে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
এখন প্রশ্ন উঠছে, ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন কি সাকিব? তিনি নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেললেও পারফরম্যান্স কতটা কার্যকর, তা নিয়েও আলোচনা আছে। কারণ, গত দেড় বছর বাংলাদেশ দল তিন সংস্করণেই তাকে ছাড়াই খেলছে।
তবু সাকিবের সাবেক কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনের চোখে জাতীয় দলে এখনো গুরুত্বপূর্ণ নাম সাকিব। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অদম্য বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে ধূমকেতু একাদশের কোচ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে সাকিবকে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্পষ্টভাবেই নিজের অবস্থান জানান সালাহউদ্দীন।
তার ভাষায়, ‘দেখুন, যদি কেউ বলে যে সাকিবকে আমি দলে চাই না, আমার মনে হয় সে তাহলে এখনো বোকার স্বর্গে বাস করছে।’
কেন এমনটা মনে করেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। সালাহউদ্দীন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে, সাকিব থাকলে একটা দলে ভারসম্য চলে আসে। একটা বোলার, একটা ব্যাটসম্যান, আপনি দুই দিকেই পাবেন। দিন শেষে সাকিব কী রকম ফিট থাকে, সেটা একটা বড় ব্যাপার। কিন্তু তাকে যে কেউই চাইবে।’
অর্থাৎ, সাকিবের অভিজ্ঞতা ও অলরাউন্ড দক্ষতা এখনো তাকে বিশেষ করে তোলে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই অবদান রাখার সামর্থ্য তাকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়।
বিসিবির পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত মিলেছে, দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হলে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজেই তাকে দলে দেখতে চায় বোর্ড।
তবে মাঠের বাইরের বাস্তবতা সাকিবের ফেরার পথে বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতির মামলা হয়েছে, যা দেশে ফেরাকে জটিল করে তুলেছে।
এই আইনি বাধা দূর করে সাকিবের দেশে ফেরা এবং আবার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিসিবি। বোর্ড জানিয়েছে, সাকিব নিজেও আবার বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে আগ্রহী।
যদিও এ বিষয়ে সাকিবের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সেটি খোলাসা করেননি সালাহউদ্দীন। এ প্রসঙ্গে তিনি শুধু বলেছেন, ‘সবকিছু তো বলা যাবে না ভাই।’
